একটা ওয়েবসাইট বানাতে কি কি প্রয়োজন!

এই আর্টিকেলটিতে একটি ওয়েবসাইট বানাতে কোন জিনিসগুলো প্রয়োজন সেসব নিয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা দিবার চেষ্টা করেছি। পুরো আর্টিকেলজুড়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, ডোমেইন, হোস্টিং, কনটেন্ট এসব কি এবং কেন লাগে এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপ কিভাবে করা যায় সেসব নিয়ে।

একটা ওয়েবসাইট করতে প্রধানত তিনটা বিষয়ের প্রয়োজন হয়। ডোমেইন, হোস্টিং এবং কনটেন্ট।

১. ডোমেইন

ডোমেইন হচ্ছে ওয়েবসাইটের নাম। যেমন- google.com, facebook.com ইত্যাদি। ওয়েবসাইটের নাম বা ডোমেইন কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন নামটা ছোট, সহজে বোঝা যায় এবং মনে রাখা যায় এমন হয়। তাহলে সহজে ব্রান্ডিং করা যায়। আপনি চাইলেই ডোমেইন রেজিষ্টার কোম্পানিগুলো থেকে বা কোন রিসেলার কোম্পানি থেকে বাৎসরিক কিংবা মাসিক প্রাইসে খুব সহজেই আপনার পছন্দের ডোমেইনটি কিনতে পারবেন।  TLD (.com .net . org . xyz etc) ভেদে ডোমেইন এর দামের তারতম্য আছে।

২. হোস্টিং

হোস্টিং হচ্ছে যেখানে একটা ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো (ইমেজ, অডিও, ভিডিও, ফাইল ইত্যাদি) রাখা হয়। হোস্টিং কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোম্পানীর পূর্বের রেপ্যুটেশন ভালো হয় মানে, কোম্পানীর তাদের কাস্টমারদের সাপোর্ট ভালোভাবে দেয় কিনা। ওয়েবসাইটের ধরণ দেখে হোস্টিং পরিমাণ, পরিধি ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়। যদি একটা ওয়েবসাইটের ট্রাফিক প্রতিদিন ১০০-২৫০ হয় তাহলে মোটামুটি শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের একটা স্টার্টার প্যাকেজ নিলেই হয়। এতে বছরে ২৫ থেকে ৫০ ডলার বা দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা খরচ পড়বে। আর যদি বড় টার্গেটের ট্রাফিক হয় তাহলে ভিপিএস কিংবা ডেডিকেটেড সার্ভার নিতে হবে। ভিপিএসের জন্য মাসে ৫০ থেকে ১৫০ ডলার এবং সার্ভারের জন্য মাসে ২০০ থেকে ৫০০ ডলার বা ততোধিক খরচ হয়। চাইলে সেটা বছর হিসেবে পারচেজ করা যায়।

তবে একটা ওয়েবসাইট শুরু করার জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং দিয়ে শুরু করাটাই বেটার। তারপর ওয়েবসাইটটি যদি ভালো করতে থাকে তাহলে যেকোনো সময় শেয়ার্ড থেকে ভিপিএস বা সার্ভারে মুভ করা সম্ভব।

৩. কনটেন্ট

কন্টেন্ট হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটে লেখা, ইমেজ, অডিও, ভিডিও যা থাকে সেগুলো। একটা ওয়েবসাইটে কী ধরণের ডাটা থাকবে সেটা আগেই নির্ধারণ করে নিতে হয়। এতে করে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট সহজ হয়ে যায়। প্ল্যানিং অনুযায়ী কাজ করা যায় সুন্দরভাবে। সাধারণত একটা ওয়েবসাইটে টেক্সট এবং ইমেজ থাকে। তবে রিকয়্যারমেন্ট অনুযায়ী কোনো কোনো ওয়েবসাইটে ভিডিও কনটেন্টও থাকে।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট

একটা ওয়েবসাইট ওপেন করলে আমরা সেই ওয়েবসাইটটা যেভাবে সাজানো দেখি সেটাই হচ্ছে ঐ ওয়েবসাইটের ডিজাইন। ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সবার আগে অওনারের চাহিদামাফিক ডিজাইন করে নিতে হয় প্ল্যান অনুযায়ী। তারপর সেই ডিজাইন অনুযায়ী ওয়েবসাইটের কোড লেখা হয়। এটা হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।

একটা ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে আপনার যদি কোন টেকনিক্যাল দক্ষতা না থাকে তবে ডেভেলপার হায়ার করতে হয়।

এছাড়া দ্বিতীয় একটা পদ্ধতি আছে, সেটা হচ্ছে সিএমএস ইউজ করা। অর্থাৎ একটা ওয়েবসাইটের কমন বিষয়গুলো নিয়ে একটা সিস্টেম দাঁড়া করানো থাকে। সেটাকে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিএমএস বলে। বর্তমান সময়ে ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস বেশ জনপ্রিয়। বড় বড় অনেক ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করা। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটা ওয়েবসাইট স্বল্পতম সময়ে এবং কম খরচে ডিজাইন এবং ডেভেলপ করা যায়। ফলে এর চাহিদা এখন সর্বাধিক।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে খুব সহজেই একটা ওয়েবসাইট রান করা যায় ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে। ডিজাইন/থিম ফ্রি এবং পেইড দুই-ই পাওয়া যায়। পেইডগুলোও বেশি দাম নয়। ৫০-১২০ ডলারের মধ্যে থিম পাওয়া যায়। স্বল্প দামে থিমের বড় মার্কেটপ্লেস হচ্ছে themeforest.net। এখানে ৪০ ডলার থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে অনেক থিম পাওয়া যায়।

আর যদি ফ্রি থিম ইউজ করা যায় তাহলে শুধুমাত্র ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনেই একটা ওয়েবসাইট শুরু করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেসের থিম দিয়ে সহজে সাইট রান করা যায় বলে থিম কাস্টমাইজ খরচও কম। চাইলে ওয়েবসাইট অওনার নিজেও থিম নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। থিমের সাথে থিমটি কাস্টমাইজ করার টিউটোরিয়াল দেয়া থাকে। হালকা কিছু পিএইচপি কোড এবং সিএসএস ও এইচটিএমএল জেনে নিয়ে কাস্টমাইজটা নিজেই করে নেয়া যায়। নিজে করতে না পরলে সেক্ষেত্রে একজন সিএমএস ডেভেলপার কে দিয়ে কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। মোটামুটি এই হলো একটা ওয়েবসাইটের কারিগরি দিক।

আশা করা যাচ্ছে এই লেখাটা পড়ার পরে ওয়েবসাইটের গঠন এবং এর বাজেট সম্পর্কে একটা পরিস্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব। এই বিষয়ে আপনাদের আরও কিছু জানবার থাকলে অথবা কোন সাজেশন থাকলে অবশ্যই তা কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment